বাংলাদেশকে ২০৩১ সালের মধ্যে উচ্চ মধ্যম আয়ের দেশে এবং ২০৪১ সালের মধ্যে উন্নত দেশে পরিণত করার লক্ষ্যে সরকার কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষার প্রসার ও মানোন্নয়নকে অগ্রাধিকার খাত হিসেবে চিহ্নিত করেছে। এরই মধ্যে সরকার ২০২৫ সালে কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষায় শিক্ষার্থী ভর্তির হার ২৫ শতাংশ এবং ২০৩০ সালের মধ্যে ৩০ শতাংশে উন্নীত করার কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করেছে।
সমাজের দরিদ্র ও সুবিধাবঞ্চিত যুবকদের কার্যকর বৃত্তিমূলক প্রশিক্ষণের মাধ্যমে দক্ষ জনশক্তিতে রূপান্তরিত করার লক্ষ্যে সিমেক ভোকেশনাল ইন্সটিটিউট প্রতিষ্ঠা করা হয়। সিমেক ভোকেশনাল ইন্সটিটিউট দক্ষ জনশক্তি বৃদ্ধিসহ বাংলাদেশকে মধ্যম আয়ের দেশ এবং ২০৪১ সালের মধ্যে উন্নত সমৃদ্ধ দেশে পরিণত করতে কার্যকর ভূমিকা পালন করে যাচ্ছে। আমাদের প্রধান উদ্দেশ্য হলো গুণগত শিক্ষার মাধ্যমে বৃহত্তর জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়ন, প্রয়োজনীয় পেশাগত দক্ষতা অর্জনের সুযোগ নিশ্চিত করা এবং তাদেরকে সামাজিক অংশীদারিত্ব বৃদ্ধি করে সমৃদ্ধ ও দায়িত্বশীল নাগরিক হিসেবে গড়ে তোলা।
সকল ছাত্রছাত্রীর জন্য মানসম্মত শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ নিশ্চিত করা, অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অর্জনে সক্ষম উৎপাদনমুখী মানব সম্পদ তৈরি, দক্ষ মানব সম্পদ গড়ার লক্ষ্যে কারিগরি শিক্ষায় শিক্ষার্থীদের সংখ্যা বৃদ্ধি, শিক্ষার সকল স্তরে লিঙ্গভিত্তিক বৈষম্য দূর করা এবং সকল জনগোষ্ঠীর জন্য কারিগরি শিক্ষা স্তরে সমান সুযোগ নিশ্চিত করা।
বর্তমান বিশ্বের প্রতিযোগিতামূলক পরিসরে শুধু বইভিত্তিক জ্ঞান নয়, বাস্তব দক্ষতাই সফলতার প্রধান হাতিয়ার। কারিগরি শিক্ষা শিক্ষার্থীদের হাতে-কলমে কাজ শেখার মাধ্যমে সেই দক্ষতা অর্জনের সুযোগ করে দেয়। এটি শুধু একটি পেশাগত প্রশিক্ষণ নয়, বাস্তব জীবনের সমস্যা সমাধান, প্রযুক্তিগত পরিবর্তনের সঙ্গে মানিয়ে নেওয়া ও আত্মনির্ভর হওয়ার এক অনন্য উপায়। কারিগরি শিক্ষার মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা দ্রুত কর্মজীবনে প্রবেশ করতে পারে। ফলে এটি কেবল একটি শিক্ষাপদ্ধতি নয়, এটি তরুণদের অর্থনৈতিক স্বাধীনতা ও ব্যক্তিগত বিকাশের একটি কার্যকর মাধ্যম।
কারিগরি শিক্ষা দেশের সামগ্রিক উন্নয়নেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। দক্ষ মানব সম্পদ গড়ে তুললে এটি শিল্পখাতে উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি করে, বেকারত্ব কমায় এবং বৈদেশিক কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করে। আধুনিক শিল্প প্রযুক্তি ও শ্রমবাজারের চাহিদা অনুযায়ী কারিগরি শিক্ষায় প্রশিক্ষণ গ্রহণ করলে শিক্ষার্থীরা ভবিষ্যতের জন্য প্রস্তুত হতে পারে। তাই আজকের যুগে কারিগরি শিক্ষা কেবল একটি বিকল্প নয়, বরং একটি বাস্তবমুখী ও সমৃদ্ধ ভবিষ্যতের নিশ্চয়তা যা ব্যক্তি, সমাজ ও রাষ্ট্র এই তিন স্তরেই উন্নয়নের পথ প্রশস্ত করে।